প্রতিটি ব্যর্থতার মাঝে লুকিয়ে থাকে সাফল্যের বীজ!
হেনরি ফোর্ড একজন অশিক্ষিত এবং দরিদ্র মানুষ ছিলেন কিন্তু স্বপ্ন দেখতেন অশ্ববিহীন একটি বাহনের যার সাহায্যে মানুষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারবে। সঙ্গে যেসব যন্ত্রপাতি ছিল তা নিয়ে তিনি কাজে নেমে গেলেন কবে সুযোগ আসবে তার অপেক্ষা করলেন না আর আজ তার স্বপ্নের ফলাফল গোটা পৃথিবী বাঁধা পড়েছে একটি বন্ধনীতে।
টমাস এডিসন একটি বাতির স্বপ্ন দেখতেন যা চলবে বিদ্যুতে। তিনি নিজের স্বপ্ন নিয়ে শুরু করে দিলেন এবং কাজ করতে গিয়ে তিনি দশ হাজারের বেশি সময় ব্যর্থ হয়েছেন ।এত ব্যর্থতা সত্ত্বেও তিনি এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটিয়ে তবেই বিরত হলেন। বাস্তববাদী স্বপ্নচারীরা কখনো হাল ছাড়েন না ।
কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীতদাসদেরকে স্বাধীন করার স্বপ্ন দেখতেন লিংকন এবং স্বপ্নের বাস্তবায়নে তিনি নেমে পড়েন। উত্তর এবং দক্ষিণ এর মাঝে বন্ধন স্থাপনের দৃশ্যটি তিনি দেখে যেতে পারেননি বটে তবে ক্রীতদাসরা তারই কারণে শত বছরের বন্দিদশা থেকে মুক্তি লাভ করেন।
রাইট ভাতৃদ্বয় এমন এমন একটি যন্ত্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন যা আকাশে উড়বে তাদের স্বপ্ন পূরণের প্রমাণ আজ সারা বিশ্ব জুড়ে।
মার্কনী এমন একটি সিস্টেমের স্বপ্ন দেখেছিলেন যা ইথাতারের অধরা শক্তিকে ধরতে পারবে। তার স্বপ্ন বৃথা যায়নি, সারা পৃথিবীতে আজ রেডিও আছে। তবে মার্কনী যখন বলেছিলেন তিনি তারের সাহায্য ছাড়াই বাতাসে খবর প্রেরন করবেন, তার বন্ধুরা তাকে পাগল ভেবে মানসিক হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল চিকিৎসা করাতে।
বিশ্ব এখন নতুন নতুন আবিষ্কার দেখে অভ্যস্ত আর স্বপ্নচারী মানুষগুলোই এসব আবিষ্কার করছেন । তবে এদের বেশিরভাগই প্রথমে ব্যর্থ হয়েছিলেন কিন্তু তারা জানতেন ব্যর্থতার মাঝে লুকিয়ে থাকে সাফল্যের বীজ।
আপনি হয়তো কোন কাজ করতে গিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন কিন্তু লেগে থাকুন সাফল্য আসবেই। এডিসন আগে ছিলেন এক ভবঘুরে টেলিগ্রাফ অপারেটর। তিনি কোন কিছু আবিষ্কার করতে গিয়ে কতবার যে ব্যর্থ হয়েছেন তার কোন হিসেব নেই ।কিন্তু তার মস্তিষ্কের মধ্যে ঘুমিয়ে থাকা প্রতিভাটির বিস্ফোরণ ঘটলে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
হেলেন কেলার এর জন্মের কিছুদিন পরই বোবা ,কালা এবং অন্ধ হয়েছেন। শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতা কিন্তু তাকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। ইতিহাসের সেরা মানুষদের তালিকায় ঠিকই জায়গা করে নিয়েছিলেন। তার গোটা জীবন এটাই প্রমাণ করে পরাজয়কে বাস্তবতা হিসেবে মেনে না নিলে কেউ কখনো পরাজিত হয় না ।
বিঠোফেন কানে শুনতে পেতেন না, মিলটন চোখে দেখতেন না । অথচ এরাই কালজয়ী সংগীত ও সাহিত্য সৃষ্টি করে গেছেন ।এটা পেরেছিলেন কারণ তারা কালজয়ী স্বপ্ন দেখতেন এবং তাদের স্বপ্ন পূরণের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতেন।
কোন কিছু চাওয়া এবং সেটি পাবার জন্য প্রস্তুত থাকা দুটি ভিন্ন জিনিস ।কেউ যদি বিশ্বাস না করে সে অমুক জিনিসটি পেতে পারে তাহলে তা পাবার জন্যে সে প্রস্তুত হয় না। মনের মধ্যে প্রবল বিশ্বাস আনতে হবে। স্রেফ ইচ্ছে করলেই বা আশা থাকলেই হবে না। আর বিশ্বাসের জন্য খোলা মন খুবই দরকার। সন্দেহে ঢাকা মনে বিশ্বাস ,সাহস ,আস্থা কোনকিছুরই জায়গা নেই।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন